অন্ধযুগের সৃজনসঙ্গী

[এই ছোটগল্পটি গতবছর তীরন্দাজ-এ বেরিয়েছিল। গল্পটি আইজাক অ্যাসিমভের এই গল্পটির ছায়াবলম্বণে লেখা]

[এক]

লিটন বিশ্বাস সেই সমস্ত কতিপয় মানুষদের একজন যাদের উপর ২০৩০ সালে কলকাতার ইনকর্পোরেশন স্বস্তি এনেছিল বেশি, জীবনযাপনে অসুবিধের চাইতে।

ইনকর্পোরেশন – অর্থাৎ যখন পৃথিবীর অনেক মেট্রোপলিসের মত কলকাতাকেও কিনে নেয় আটটি যুযুধান কর্পোরেশনের একটি। চুক্তি এমন ছিল যে কলকাতা আর ভারতীয় রাষ্ট্রের অন্তর্গত থাকবে না। অন্যান্য মেট্রোপলিসেও শহর থেকে দেশে যেতে ভিসা, পারমিট লাগে, কিন্তু দূঃস্থ কলকাতার ক্ষেত্রে চুক্তিগুলি ছিল একটু বিচিত্র। Continue reading “অন্ধযুগের সৃজনসঙ্গী”

Advertisements

Review by Adideb Mukhopadhyay

আমরা আগুন, জল ও মৃত্তিকার কথা বলছি

এই বইতে একটা কথা একটু ভুল আছে, ভূমিকায় ভুলটা আছে, অনিন্দ্যদার সেটা লেখা নয়, সুতরাং দায়িত্বও তাঁর নয়। বাংলাভাষায় সিরিয়াস কল্পবিজ্ঞান হিসেবে অপার্থিব হয়তো প্রথম- কথাটা ঠিক নয়। লেখক বইয়ের উত্তরকথা-য় জাফর ইকবালের নাম উল্লেখ করেছেন, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে ১৯৭৩ সালে কপোট্রনিক সুখদুঃখ লেখা হয়ে গেছিল, প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগও এসেছিল ইকবালের নামে। সম্ভবত একই বছরে ইকবালের দাদা হুমায়ূন আহমেদ লিখবেন জীবনের তিন নম্বর উপন্যাস- যেটি একটি হার্ডকোর সায়েন্স ফিকশন লেখা- নাম ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’। Continue reading “Review by Adideb Mukhopadhyay”

Review at Abantor

‘অবান্তর’ ব্লগে কুন্তলা ‘অপার্থিব’-র রিভিউ লিখেছিলেন, চোখে পড়েনি, কুন্তলাকে ধন্যবাদ

“অপার্থিব, অনিন্দ্য সেনগুপ্তের লেখা কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস। দু’হাজার পঁয়ষট্টি সাল, আমাদের পৃথিবীর বেশিরভাগটাই আটটি প্রতিদ্বন্দ্বী কর্পোরেশনের দখলে। এই সময় পৃথিবী থেকে ৪.২৪ আলোকবর্ষ দূরে প্রক্সিমা সেন্টরি তারকামণ্ডলের করোনা গ্রহে প্রাণের সন্ধান পাওয়া যায়, একদল বৈজ্ঞানিককে সেখানে পাঠানো হয় এবং সেখানে পৌঁছে তাঁরা ধীরে ধীরে সকলেই জরদ্গবে পরিণত হতে থাকেন। এই সময় এন্ট্রি নেন আমাদের অ্যান্টিহিরো দারিয়াস মজুমদার, পেশায় হ্যাকার, কর্পোরেশনের কাছে থ্রেট, এবং যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত। তিনি করোনা রহস্য সমাধান করতে পারবেন কি না, সেই নিয়েই অনিন্দ্য সেনগুপ্তের উপন্যাস ‘অপার্থিব’। Continue reading “Review at Abantor”

‘বইয়ের দেশ’-এ সাগ্নিক রক্ষিতের সমালোচনা

গত অক্টোবর-নভেম্বর ২০১৭-র ‘বইয়ের দেশ’-এ সাগ্নিক রক্ষিত নলিনী বেরার ‘জোন থার্টি’ এবং ‘অপার্থিব’-র একটি সমালোচনা লিখেছিলেন। Continue reading “‘বইয়ের দেশ’-এ সাগ্নিক রক্ষিতের সমালোচনা”

Review by Debarghya Goswami

দেবার্ঘ্য গোস্বামীর এই রিভিউটি প্রকাশিত হয়েছে ‘তীরন্দাজ’-এ

‘অপার্থিব’-র তুঙ্গে বৃহস্পতি চলছে! সম্রাট সেনগুপ্তর সমালোচনাটির পরে ‘তীরন্দাজ’-এ বেরোনো দেবার্ঘ্য গোস্বামীর এই রিভিউটিই আমার কাছে সবচাইতে স্পর্শ করেছে 🙂 লিংক দিলাম, কিন্তু পুরো লেখাটাই উদ্ধৃত করার লোভ সামলাতে পারছি না!

‘অপার্থিব’ সম্বন্ধে পার্থিব ভাবনা-সুলুক

দেবার্ঘ্য গোস্বামী

সংগীতের যেমন নিজস্ব ভাষা আছে, নিজস্ব ভাষা আছে ছবি ও সিনেমার যেমন, বিজ্ঞানেরও তেমনি নিজস্ব ভাষা আছে। অনিন্দ্য সেনগুপ্ত আদ্যন্ত সেই ভাষাতেই লিখেছেন তার উপন্যাস ‘অপার্থিব’। কথাশিল্পে এ ভাষা ব্যবহারের কিছু ঝক্কি আছে। শব্দোত্তর অনুভূতি ছুঁয়ে ফেলার জন্য সংগীতের যেমন সুর ও স্বর আছে, ছবির আছে রং রেখা আকার, সিনেমার আলো আঁধার, ক্যামেরার অবস্থান, দৃশ্যের স্থায়ীত্ব ইত্যাদি আছে, বিজ্ঞানে তেমনি ব্যবহার হয় অঙ্ক অথবা ছবি। মুশকিল হলো কথাশিল্পে এদের খুব বেশি ব্যবহারের অবকাশ থাকে না। তাই ফাইনম্যানিয় প্রতিভা ও প্রজ্ঞা না থাকলে কথা ছেঁকে কথাতর জায়গাতে পৌঁছানো কিছুটা কঠিন হয়ে পরে। অনিন্দ্যবাবু এ কাজটি বেশ করেছেন। পড়তে গিয়ে আটকাতে হয়না শব্দের কানাগলিতে পথ হারিয়ে। এ ব্যাপারে লেখকের অবশ্য একটি সুবিধে ছিলো। গল্পের ভাষা বিজ্ঞানের হলেও বিষয় কিন্তু বিজ্ঞান নয়। কল্পবিজ্ঞান বলতেও খানিক আপত্তি আমার। সাধারণভাবে কল্পবিজ্ঞানে যেভাবে হাতে গরম ও প্রমাণিত বিজ্ঞান-তত্ত্বের ভিত্তির ওপর ভবিষ্যত বিজ্ঞানের অনুমাননির্ভর ঘটনাকে নির্মাণ করা হয় এখানেও তাই হয়েছে। ভিতখানিতে কোনো তথ্যপ্রমাদ খুঁজে পাইনি (একটি বেশ বড় সংশয় ছাড়া, সেটা পরে বলছি)। কিন্তু প্রায় প্রতিটি ভবিষ্যত-অনুমানই বহু ব্যবহৃত , তাই “কল্প”-এর অবকাশ এখানে কম। আর সেকারণেই পূর্বানুমানগুলো, যা পরে ঘটবে বলে মনে করা হয়েছে মোটামুটি সজ্ঞায়িত, শব্দ ছেঁকে না-শব্দ তুলে আনার কাজটি করাই ছিল। লেখক সেগুলি ব্যবহার করেছেন ভীষণ সুচতুরভাবে। এখানে বিজ্ঞান ততটুকুই যতটুকু ভাষায় ধরা গেছে। Continue reading “Review by Debarghya Goswami”

Responses by Ankita Ghosh

Two Responses by Ankita Ghosh

১।

“কাল রাতে একটা কল্পবিজ্ঞানের উপন্যাস পড়তে গিয়ে মাথার কোডগুলি রিস্ট্রাকচার্ড হয়ে অর্থাৎ সোজা বাংলায় ঘেঁটে গিয়ে আমি এক অনুভূতিহীন অস্তিত্বে পরিণত হলাম
বুঝলাম আমি এক অনাশ্চর্য মানুষ অকারণ এবং নিরালম্ব বেঁচে থাকা ছাড়া যার কোন মোটিভেশন নেই
তার নামে কেউ উৎসর্গ করেনি কোন বই নিয়মিত ব্যায়াম করে সুগঠিত থাকারও কোন কারণ খুঁজে পায়নি সে বহুদিন
খুঁজেছিল যদিও তন্নতন্ন করে
এখন আর খোঁজে না
এই শহর অবিকল যন্ত্রের মত আজ্ঞাবাহী হয়ে উঠছে টের পায় সে
শুধু এই একটা কারণেই তার এক সময়ের প্রিয় এই শহরের সাথে সম্পর্কের সবকটা সুতো কেটে দিয়ে চলে যাওয়া যায়
যেতে চায় সে
সুতোগুলো টানটান হয়ে ওঠার আগেই যেতে চায় কেননা সম্পর্ক ছেঁড়ার কথা সে ছাড়া আর কেউ টের পাক চায় না সে আর পাঁচটা প্রেডিক্টেবল মানুষের মতই
সকলেই ঝঞ্ঝাট এড়াতে চেয়ে এসেছে
কেননা যুদ্ধ প্রোগ্রাম করে যারা তারা মহা ধুরন্ধর বাকিরা নিরাপদ জড়দ্গবে পরিণত হলেই তাদের সুবিধে
আর কে না জানে বিভিন্ন সুবিধের খোঁজেই গোটা জীবন অনায়াসে কাটিয়ে দেয় বোকারা
আর সেই সুবিধেগুলো দিচ্ছে এমন ভাব করে, ধুরন্ধরেরা

কবিতা যদি নিছক ব্যক্তিগত কিছু কোড হয় তাহলে এই কবিতায় পড়ে থাকা অনেকগুলো কোড অনেকে চিনতে পারবেন বলেই আমার ধারণা
সবথেকে মজার ব্যাপার হল এঁদের প্রত্যেকেই ভাববেন সবগুলি কোডই তাঁর উদ্দেশে অর্থাৎ প্রত্যেকের কল্পনা ও যুক্তির জগত ভারি হয়ে উঠবে কিছু চেনা এবং বেশিরভাগ আপাতচেনা কিন্তু আদতে সম্পূর্ণ অচেনা সিগন্যালে
সে ভারি মজার অ্যানোম্যালি হবে
বন্ধুর মত মুখোশ পরে যারা বিভিন্ন মানুষের চরাচর থেকে চরাচরে ঘুরে বেড়ায় তারা কি বোঝে নির্বাসনে আসলে কে বা কারা যায়?
আধুনিক পৃথিবীর কারাগারগুলোতে আর গারদ নেই কোন
কেননা তার দরকারই নেই আর
ধুরন্ধরেরা জেলখানাকে মুক্তি আর মুক্তিকেই গারদ ভাবতে শিখিয়ে দিয়েছে জড়দ্গবদের
প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছাড়া পালিয়ে যাওয়ার আর কোন আকাশযান নেই আমাদের

সময়ের কোডনামা ঘেঁটে দিতে পারলে প্রতিটা দিনকেই দাগিয়ে দিতাম আগামীকাল বলে
আর জোর গলায় বলতাম আগামীকালই আমি চলে যাব”

২।

“পেরেকের মত দাঁড়িয়ে থাকে দুই জীবন
মুখোমুখি
কিন্তু একে অপরকে দেখতে পায় না
কেননা তাদের এক দেওয়ালের দুই পিঠে হাল্কা গাঁথা হয়েছে
এখন কি তারা ঈলানা ইতজাকের কথা মত একে অপরের দিকে যাত্রা শুরু করবে?
একজন প্রতি মুহূর্তে আশা করবে যে সে অপরজনের ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে?
এবং এইভাবে চলতে চলতে মাঝপথে তাদের দেখা হয়ে যাবেই?
দেখা হলে সে এক আশ্চর্য সমাপতন নয় কি?
এবার এদের ব্লাইন্ডফোল্ড করে দিন, এহে দেখা হওয়ার যেটুকু সম্ভাবনা ছিল দিলেন তো ঘুচিয়ে?
এরা কি একে অপরের গন্ধ চেনে? কিম্বা স্পর্শ?
কতবার কাছে আসার পর নিশ্চিত করে চিনে নেওয়া যায়? কতক্ষণ ধরে কাছে থাকলে? কত আলোকবর্ষ পার হলে? মধ্যিখানে তেভা ভারাভের শর্টকাট আছে নাকি? থাকে?

হাতুড়ির গল্পটা অন্য
সে গল্পে প্রশ্ন কম, নির্দ্বিধায় আদেশ পালনের প্রচলন বেশি
কেননা পেটের দায় বড় দায়
আর কে না জানে নিয়মিত আদেশ পালনের মত গতানুগতিক আর তেমন কিছুই নেই
হাতুড়ি তাই ভাবে কম করে বেশি
তার কাজ বেশিদূর এগোতে না দিয়ে পেরেক দুটোকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেওয়ালে গেঁথে ফ্যালা
১০০ দিনের কাজ, করে ফেললে নুন পান্তা নিশ্চিত
এই শেষ লাইনটা পড়েই ভিস্যুয়ালাইজ করে ফেললেন তো হাতুড়ির জীবন? ‘১০০ দিনের কাজ’ বলতেই ক্লাস কাস্ট ভূগোল অঙ্ক ইতিহাস পাতিহাঁস না বাঁধানো পুকুর ঘাট সহ হাজির, তাই না? ভাবা প্র্যাকটিস হয়ে গ্যাছে আপনার, ব্রাভো!

একমাত্র দেওয়ালেরই কোন গল্প নেই
ভোট দেবেন ইশে আছে
জবাব চাই জবাব দাও আছে
(১৯৭৫-১৯৮৪ সিপিএম) আছে
প্রচারে অমুকের স্নেহধন্য তমুক আছে
অর্শ ভগন্দর কিম্বা গোপন যৌনরোগের ওপেন চিকিৎসা আছে
আর হাতুড়িকে কোনমতে ঠেকিয়ে একে অপরের কাছে পৌঁছতে চাওয়ার তীব্র স্বপ্ন দেখা
দুটো পেরেক আছে।”

Review by Samrat Sengupta

সম্রাট সেনগুপ্ত কালিমাটি অনলাইনে ‘অপার্থিব’-র একটি রিভিউ লিখেছেন

“প্রথমত আমি ঝাঁকিদর্শনে অভ্যস্ত নই, দ্বিতীয়ত মতাদর্শগতভাবে রিভিউ নামক ক্রিয়ার বিপরীতে অবস্থিত এই বই। রিভিউয়ে যে পুনরাবৃত্তির সম্ভবনা থাকে, যে ‘রি’ নামক পূর্বযোজনটি অনুষ্ঠিত হতে চায়, তাকে ব্যাহত করে এই বইয়ের মুল সুরটি। অতীতের আবর্তন নয়, বরং তাকে মুছে ফেলা, সাজানো ফাইল সমূহের কোরাপ্ট হয়ে যাওয়া, সভ্যতার ফরম্যাটিং-এর আশু প্রয়োজন এই গপ্পের আধার। জঁর সমালোচনায় না গিয়েও একে প্রচলিত সার্বিক জীবনের এক দীর্ঘ ছবির অঙ্কে নভেল বলতে দ্বিধা হয়, তবে প্রয়াস হিসেবে বেশ নতুন তো বটেই — সেই অর্থে নভেল।

Continue reading “Review by Samrat Sengupta”

Review by Shan Bhattacharya

Review by Shan Bhattacharya

“বাংলায় উচ্চমার্গের কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য পড়তে পারা আর বনগাঁর আকাশে অরোরা দেখা প্রায় একই ব্যাপার। মনেপ্রাণে চাই, কিন্তু বাস্তবে পেতে গেলে জিভের তলায় বুদ্ধ দিতে হবে। বাংলায় কল্পবিজ্ঞানের নামে অল্পবিস্তর যেটুকু লেখালিখি হয় তা এড়িয়ে চলি এই কারণেই। তাছাড়া বয়েস মধ্য তিরিশে এসে ঠেকেছে, হাতে সময় খুব কম। তবু অনিন্দ্য সেনগুপ্তর সাম্প্রতিকতম লেখা “অপার্থিব” উপন্যাসটি হাতের সামনে পেয়ে পড়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। তার প্রধান কারণ দুখানা – ১- অনিন্দ্যবাবুর সাথে সোশাল মিডিয়াতে যুক্ত হওয়ার সুবাদে ওনার মতামতের সাথে আমি পরিচিত, এবং মাঝেমধ্যেই একমত হয়ে থাকি। ২- কয়েকজন বন্ধুবরের recommendation. Continue reading “Review by Shan Bhattacharya”

Review by Ishita Karmakar

আনুমানিক ২০৬৫ সাল..আটটি যুযুধান কর্পোরেশনের শাসনে পৃথিবী..৪.২৪ আলোকবর্ষ দূরে প্রক্সিমা সেন্টরি তারকামন্ডলের গ্রহ করোনা,যেখানে প্রাণ আছে..একটি কর্পোরেশন থেকে পাঠানো বিজ্ঞানী অভিযাত্রীদলের সদস্যরা একের পর এক বোধবুদ্ধিহীন জড়ভরতে পরিণত হচ্ছে..রহস্যের সমাধানে সেখানে পাঠানো হয় সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হ্যাকার দারিয়াস মজুমদারকে..শেষে কি ঘটলো?
হ্যাঁ,এতদূর পড়ে পুরোটা পড়ার জন্য প্রাণ হাঁকপাঁক করলে দোষের কিছু নেই। Continue reading “Review by Ishita Karmakar”