Review by Debarghya Goswami

দেবার্ঘ্য গোস্বামীর এই রিভিউটি প্রকাশিত হয়েছে ‘তীরন্দাজ’-এ

‘অপার্থিব’-র তুঙ্গে বৃহস্পতি চলছে! সম্রাট সেনগুপ্তর সমালোচনাটির পরে ‘তীরন্দাজ’-এ বেরোনো দেবার্ঘ্য গোস্বামীর এই রিভিউটিই আমার কাছে সবচাইতে স্পর্শ করেছে 🙂 লিংক দিলাম, কিন্তু পুরো লেখাটাই উদ্ধৃত করার লোভ সামলাতে পারছি না!

‘অপার্থিব’ সম্বন্ধে পার্থিব ভাবনা-সুলুক

দেবার্ঘ্য গোস্বামী

সংগীতের যেমন নিজস্ব ভাষা আছে, নিজস্ব ভাষা আছে ছবি ও সিনেমার যেমন, বিজ্ঞানেরও তেমনি নিজস্ব ভাষা আছে। অনিন্দ্য সেনগুপ্ত আদ্যন্ত সেই ভাষাতেই লিখেছেন তার উপন্যাস ‘অপার্থিব’। কথাশিল্পে এ ভাষা ব্যবহারের কিছু ঝক্কি আছে। শব্দোত্তর অনুভূতি ছুঁয়ে ফেলার জন্য সংগীতের যেমন সুর ও স্বর আছে, ছবির আছে রং রেখা আকার, সিনেমার আলো আঁধার, ক্যামেরার অবস্থান, দৃশ্যের স্থায়ীত্ব ইত্যাদি আছে, বিজ্ঞানে তেমনি ব্যবহার হয় অঙ্ক অথবা ছবি। মুশকিল হলো কথাশিল্পে এদের খুব বেশি ব্যবহারের অবকাশ থাকে না। তাই ফাইনম্যানিয় প্রতিভা ও প্রজ্ঞা না থাকলে কথা ছেঁকে কথাতর জায়গাতে পৌঁছানো কিছুটা কঠিন হয়ে পরে। অনিন্দ্যবাবু এ কাজটি বেশ করেছেন। পড়তে গিয়ে আটকাতে হয়না শব্দের কানাগলিতে পথ হারিয়ে। এ ব্যাপারে লেখকের অবশ্য একটি সুবিধে ছিলো। গল্পের ভাষা বিজ্ঞানের হলেও বিষয় কিন্তু বিজ্ঞান নয়। কল্পবিজ্ঞান বলতেও খানিক আপত্তি আমার। সাধারণভাবে কল্পবিজ্ঞানে যেভাবে হাতে গরম ও প্রমাণিত বিজ্ঞান-তত্ত্বের ভিত্তির ওপর ভবিষ্যত বিজ্ঞানের অনুমাননির্ভর ঘটনাকে নির্মাণ করা হয় এখানেও তাই হয়েছে। ভিতখানিতে কোনো তথ্যপ্রমাদ খুঁজে পাইনি (একটি বেশ বড় সংশয় ছাড়া, সেটা পরে বলছি)। কিন্তু প্রায় প্রতিটি ভবিষ্যত-অনুমানই বহু ব্যবহৃত , তাই “কল্প”-এর অবকাশ এখানে কম। আর সেকারণেই পূর্বানুমানগুলো, যা পরে ঘটবে বলে মনে করা হয়েছে মোটামুটি সজ্ঞায়িত, শব্দ ছেঁকে না-শব্দ তুলে আনার কাজটি করাই ছিল। লেখক সেগুলি ব্যবহার করেছেন ভীষণ সুচতুরভাবে। এখানে বিজ্ঞান ততটুকুই যতটুকু ভাষায় ধরা গেছে। Continue reading “Review by Debarghya Goswami”

Advertisements

Responses by Ankita Ghosh

Two Responses by Ankita Ghosh

১।

“কাল রাতে একটা কল্পবিজ্ঞানের উপন্যাস পড়তে গিয়ে মাথার কোডগুলি রিস্ট্রাকচার্ড হয়ে অর্থাৎ সোজা বাংলায় ঘেঁটে গিয়ে আমি এক অনুভূতিহীন অস্তিত্বে পরিণত হলাম
বুঝলাম আমি এক অনাশ্চর্য মানুষ অকারণ এবং নিরালম্ব বেঁচে থাকা ছাড়া যার কোন মোটিভেশন নেই
তার নামে কেউ উৎসর্গ করেনি কোন বই নিয়মিত ব্যায়াম করে সুগঠিত থাকারও কোন কারণ খুঁজে পায়নি সে বহুদিন
খুঁজেছিল যদিও তন্নতন্ন করে
এখন আর খোঁজে না
এই শহর অবিকল যন্ত্রের মত আজ্ঞাবাহী হয়ে উঠছে টের পায় সে
শুধু এই একটা কারণেই তার এক সময়ের প্রিয় এই শহরের সাথে সম্পর্কের সবকটা সুতো কেটে দিয়ে চলে যাওয়া যায়
যেতে চায় সে
সুতোগুলো টানটান হয়ে ওঠার আগেই যেতে চায় কেননা সম্পর্ক ছেঁড়ার কথা সে ছাড়া আর কেউ টের পাক চায় না সে আর পাঁচটা প্রেডিক্টেবল মানুষের মতই
সকলেই ঝঞ্ঝাট এড়াতে চেয়ে এসেছে
কেননা যুদ্ধ প্রোগ্রাম করে যারা তারা মহা ধুরন্ধর বাকিরা নিরাপদ জড়দ্গবে পরিণত হলেই তাদের সুবিধে
আর কে না জানে বিভিন্ন সুবিধের খোঁজেই গোটা জীবন অনায়াসে কাটিয়ে দেয় বোকারা
আর সেই সুবিধেগুলো দিচ্ছে এমন ভাব করে, ধুরন্ধরেরা

কবিতা যদি নিছক ব্যক্তিগত কিছু কোড হয় তাহলে এই কবিতায় পড়ে থাকা অনেকগুলো কোড অনেকে চিনতে পারবেন বলেই আমার ধারণা
সবথেকে মজার ব্যাপার হল এঁদের প্রত্যেকেই ভাববেন সবগুলি কোডই তাঁর উদ্দেশে অর্থাৎ প্রত্যেকের কল্পনা ও যুক্তির জগত ভারি হয়ে উঠবে কিছু চেনা এবং বেশিরভাগ আপাতচেনা কিন্তু আদতে সম্পূর্ণ অচেনা সিগন্যালে
সে ভারি মজার অ্যানোম্যালি হবে
বন্ধুর মত মুখোশ পরে যারা বিভিন্ন মানুষের চরাচর থেকে চরাচরে ঘুরে বেড়ায় তারা কি বোঝে নির্বাসনে আসলে কে বা কারা যায়?
আধুনিক পৃথিবীর কারাগারগুলোতে আর গারদ নেই কোন
কেননা তার দরকারই নেই আর
ধুরন্ধরেরা জেলখানাকে মুক্তি আর মুক্তিকেই গারদ ভাবতে শিখিয়ে দিয়েছে জড়দ্গবদের
প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছাড়া পালিয়ে যাওয়ার আর কোন আকাশযান নেই আমাদের

সময়ের কোডনামা ঘেঁটে দিতে পারলে প্রতিটা দিনকেই দাগিয়ে দিতাম আগামীকাল বলে
আর জোর গলায় বলতাম আগামীকালই আমি চলে যাব”

২।

“পেরেকের মত দাঁড়িয়ে থাকে দুই জীবন
মুখোমুখি
কিন্তু একে অপরকে দেখতে পায় না
কেননা তাদের এক দেওয়ালের দুই পিঠে হাল্কা গাঁথা হয়েছে
এখন কি তারা ঈলানা ইতজাকের কথা মত একে অপরের দিকে যাত্রা শুরু করবে?
একজন প্রতি মুহূর্তে আশা করবে যে সে অপরজনের ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে?
এবং এইভাবে চলতে চলতে মাঝপথে তাদের দেখা হয়ে যাবেই?
দেখা হলে সে এক আশ্চর্য সমাপতন নয় কি?
এবার এদের ব্লাইন্ডফোল্ড করে দিন, এহে দেখা হওয়ার যেটুকু সম্ভাবনা ছিল দিলেন তো ঘুচিয়ে?
এরা কি একে অপরের গন্ধ চেনে? কিম্বা স্পর্শ?
কতবার কাছে আসার পর নিশ্চিত করে চিনে নেওয়া যায়? কতক্ষণ ধরে কাছে থাকলে? কত আলোকবর্ষ পার হলে? মধ্যিখানে তেভা ভারাভের শর্টকাট আছে নাকি? থাকে?

হাতুড়ির গল্পটা অন্য
সে গল্পে প্রশ্ন কম, নির্দ্বিধায় আদেশ পালনের প্রচলন বেশি
কেননা পেটের দায় বড় দায়
আর কে না জানে নিয়মিত আদেশ পালনের মত গতানুগতিক আর তেমন কিছুই নেই
হাতুড়ি তাই ভাবে কম করে বেশি
তার কাজ বেশিদূর এগোতে না দিয়ে পেরেক দুটোকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেওয়ালে গেঁথে ফ্যালা
১০০ দিনের কাজ, করে ফেললে নুন পান্তা নিশ্চিত
এই শেষ লাইনটা পড়েই ভিস্যুয়ালাইজ করে ফেললেন তো হাতুড়ির জীবন? ‘১০০ দিনের কাজ’ বলতেই ক্লাস কাস্ট ভূগোল অঙ্ক ইতিহাস পাতিহাঁস না বাঁধানো পুকুর ঘাট সহ হাজির, তাই না? ভাবা প্র্যাকটিস হয়ে গ্যাছে আপনার, ব্রাভো!

একমাত্র দেওয়ালেরই কোন গল্প নেই
ভোট দেবেন ইশে আছে
জবাব চাই জবাব দাও আছে
(১৯৭৫-১৯৮৪ সিপিএম) আছে
প্রচারে অমুকের স্নেহধন্য তমুক আছে
অর্শ ভগন্দর কিম্বা গোপন যৌনরোগের ওপেন চিকিৎসা আছে
আর হাতুড়িকে কোনমতে ঠেকিয়ে একে অপরের কাছে পৌঁছতে চাওয়ার তীব্র স্বপ্ন দেখা
দুটো পেরেক আছে।”

Review by Samrat Sengupta

সম্রাট সেনগুপ্ত কালিমাটি অনলাইনে ‘অপার্থিব’-র একটি রিভিউ লিখেছেন

“প্রথমত আমি ঝাঁকিদর্শনে অভ্যস্ত নই, দ্বিতীয়ত মতাদর্শগতভাবে রিভিউ নামক ক্রিয়ার বিপরীতে অবস্থিত এই বই। রিভিউয়ে যে পুনরাবৃত্তির সম্ভবনা থাকে, যে ‘রি’ নামক পূর্বযোজনটি অনুষ্ঠিত হতে চায়, তাকে ব্যাহত করে এই বইয়ের মুল সুরটি। অতীতের আবর্তন নয়, বরং তাকে মুছে ফেলা, সাজানো ফাইল সমূহের কোরাপ্ট হয়ে যাওয়া, সভ্যতার ফরম্যাটিং-এর আশু প্রয়োজন এই গপ্পের আধার। জঁর সমালোচনায় না গিয়েও একে প্রচলিত সার্বিক জীবনের এক দীর্ঘ ছবির অঙ্কে নভেল বলতে দ্বিধা হয়, তবে প্রয়াস হিসেবে বেশ নতুন তো বটেই — সেই অর্থে নভেল।

Continue reading “Review by Samrat Sengupta”

Review by Shan Bhattacharya

Review by Shan Bhattacharya

“বাংলায় উচ্চমার্গের কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য পড়তে পারা আর বনগাঁর আকাশে অরোরা দেখা প্রায় একই ব্যাপার। মনেপ্রাণে চাই, কিন্তু বাস্তবে পেতে গেলে জিভের তলায় বুদ্ধ দিতে হবে। বাংলায় কল্পবিজ্ঞানের নামে অল্পবিস্তর যেটুকু লেখালিখি হয় তা এড়িয়ে চলি এই কারণেই। তাছাড়া বয়েস মধ্য তিরিশে এসে ঠেকেছে, হাতে সময় খুব কম। তবু অনিন্দ্য সেনগুপ্তর সাম্প্রতিকতম লেখা “অপার্থিব” উপন্যাসটি হাতের সামনে পেয়ে পড়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। তার প্রধান কারণ দুখানা – ১- অনিন্দ্যবাবুর সাথে সোশাল মিডিয়াতে যুক্ত হওয়ার সুবাদে ওনার মতামতের সাথে আমি পরিচিত, এবং মাঝেমধ্যেই একমত হয়ে থাকি। ২- কয়েকজন বন্ধুবরের recommendation. Continue reading “Review by Shan Bhattacharya”

Review by Ishita Karmakar

আনুমানিক ২০৬৫ সাল..আটটি যুযুধান কর্পোরেশনের শাসনে পৃথিবী..৪.২৪ আলোকবর্ষ দূরে প্রক্সিমা সেন্টরি তারকামন্ডলের গ্রহ করোনা,যেখানে প্রাণ আছে..একটি কর্পোরেশন থেকে পাঠানো বিজ্ঞানী অভিযাত্রীদলের সদস্যরা একের পর এক বোধবুদ্ধিহীন জড়ভরতে পরিণত হচ্ছে..রহস্যের সমাধানে সেখানে পাঠানো হয় সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হ্যাকার দারিয়াস মজুমদারকে..শেষে কি ঘটলো?
হ্যাঁ,এতদূর পড়ে পুরোটা পড়ার জন্য প্রাণ হাঁকপাঁক করলে দোষের কিছু নেই। Continue reading “Review by Ishita Karmakar”

Fault-Intolerant by Isaac Asimov

এই ব্লগে যে ছোটগল্পগুলি পোস্ট করা হয়েছে তার ক্রমেই একটি ছোটগল্প – অন্ধযুগের সৃজনসঙ্গী – প্রকাশিত হয়েছে ‘তীরন্দাজ’ পত্রিকায়। এইখানে তার লিংক রইলো। গল্পটির সাথে সম্পর্ক আছে আইজ্যাক অ্যাসিমভের এই গল্পটির।

The short-story beneath was compiled in Gold: The Final Science Fiction Collection is a 1995 collection of stories and essays by American writer Isaac Asimov. It is an inspiration behind a short-story of mine which is forthcoming. Copyright belongs to the publisher of the anthology.

14 february

I didn’t get confused. Now that the proof is in, I can talk about it. The short story went as smoothly as cream. I brought it in and they’ve taken it. No problem.

So I’ve finally started my new novel. I should have started it a month ago, but I had to make sure I could work my word processor first. Let’s hope it works. It’ll seem funny not having a pile of yellow sheets I can rifle through when I want to check something I said a hundred pages earlier, but I suppose I can learn how to check back on the discs. Continue reading “Fault-Intolerant by Isaac Asimov”

সৃষ্টি প্রিয়দর্শিনীর মন

১। সমরেন্দ্র স্যান্যাল

কলকাতার উচ্চতম বিল্ডিং আর্বানা ১০-এর মাথার উপর একটি চপার ঘুরপাক খেতে খেতে নামছিল। আর হেলিপ্যাডের ধারে দাঁড়িয়েছিলেন কলকাতা পুলিসের ডিসি সমরেন্দ্র স্যান্যাল এবং তার ব্যক্তিগত আধিকারীক কর্পুর ধর। এই উচ্চতা থেকে ইন্স্যুলেটেড শহরটার প্রায় পুরোটা দেখতে পাওয়া যায়, এমনকি সন্তোষপুর থেকে নো ম্যান্‌স ল্যান্ডটা এবং তারও আড়াই মাইল দূরে ঝাপসা শহরঘেরা তারের ওয়ালটাও। কর্পুরের ভার্টিগো আছে, সে নিচের দিকে তাকায় না। কিন্তু সমরেন্দ্র ঠিক করলেন চপার যতক্ষণ না নামে তিনি উড়ন্ত যানটার দিকে তাকিয়ে থাকবেন না – চাকর-বাকরের মত দেখতে লাগে, দেবতার অবতরণ ঘটছে তার দিকে হ্যাংলার মত হাঁ করে তাকিয়ে থাকা ভক্তের মত। তিনি তাই বিল্ডিং-এর ধার ঘেসে তাকিয়ে থাকলেন শহরটার দিকে।

Continue reading “সৃষ্টি প্রিয়দর্শিনীর মন”

বন্ধু দীপংকর সেন লিখেছেন

“আনন্দ কারে কয়? একটি আনন্দ বলি। এখন থেকে সাতাশ বছর আগে আলাপ হওয়া এবং প্রায় নিমেষেই বন্ধু হয়ে যাওয়া এবং নিরবিচ্ছিন্ন বন্ধুত্বে থেকে যাওয়ার একজন যখন অনেক, অনেক দিনের ক্রিয়েটিভ পরিশ্রমের পর কিছু একটা তৈরী করতে পারে, তখন আনন্দ হয়। বলছি অনিন্দ্য সেনগুপ্ত ও তার বই অপার্থিব’এর কথা। আমি অত্যন্ত আনন্দিত ওর বইটা বেরোনোয়।
না, এই লেখার উদ্দেশ্য বইয়ের প্রচার নয়। অনিন্দ্য নিজেই গত বেশ কিছুদিন ধরে বইয়ের প্রচার করেছে, এই বিশ্বাস থেকে যে নিজে যা নিয়ে কনভিন্সড, তা নিজেকেই প্রচার করতে হবে, তা নাহলে নিজের কাজের প্রতিই কিছুটা অন্যায় করা হয়। বইটা আমি পড়িনি তাই এর গুণাগুণ নিয়ে কিছু বলতে পারব না এটুকু ছাড়া, অনিন্দ্যকে দীর্ঘ সময় ধরে চেনার সুবাদে, যে বইটি ফাঁকি দিয়ে তৈরী হয়নি। নিজের পছন্দের কাজে অনিন্দ্য ফাঁকি দেওয়ার ফাইন আর্টটা রপ্ত করতে শেখেনি। বই তোমরা পড়বে কি না, সেটা তোমাদের ব্যাপার। আমি একটু অন্য কথা বলে ক্ষান্ত দেব।
অনিন্দ্য আর আমার যে সম্পর্ক, যা নিয়ে পাব্লিক জায়গায় এই প্রথম মুখ খুললাম, তাতে আমি দ্বিধাহীন বলতে পারি এই বইয়ের রচনায় আমিও জড়িয়ে ছিলাম। কিভাবে? অনিন্দ্য আর আমি আজ যা হয়েছি (হ্যাঁ, কিছুই না, জানি) তাতে আমরা দুজনই দুজনকে গড়েছি, আমাদের কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ফর্ম্যাটিভ বছরগুলোয়, দিনের পর দিনের সুদীর্ঘ আড্ডা, গল্প, বিতর্ক, আলোচনা দিয়ে। অবশ্য এখানে আরো অনেকেই ঢুকে আছে যাদের নাম এখন নিচ্ছি না। আমি যখন কিছু লিখি তখন সে লেখায় অনিন্দ্য ঢুকে থাকে কো-অথার হিসেবে নয়, আরো বস্তুত গভীর ভাবে, as a shaping influence on my thoughts and ideas। থাকেই। ঠিক সে জায়গা থেকেই বলছি, আমিও লুকিয়ে ছিলাম অপার্থিব রচনার প্রক্রিয়াটার অদৃশ্য, অবচেতন আনাচকানাচে। খুব হাল্কাভাবে হলেও, ছিলাম।
যতবার এটা ভাবছি, একটা অপার্থিব আনন্দে মন ভরে যাচ্ছে।”