বন্ধু দীপংকর সেন লিখেছেন

“আনন্দ কারে কয়? একটি আনন্দ বলি। এখন থেকে সাতাশ বছর আগে আলাপ হওয়া এবং প্রায় নিমেষেই বন্ধু হয়ে যাওয়া এবং নিরবিচ্ছিন্ন বন্ধুত্বে থেকে যাওয়ার একজন যখন অনেক, অনেক দিনের ক্রিয়েটিভ পরিশ্রমের পর কিছু একটা তৈরী করতে পারে, তখন আনন্দ হয়। বলছি অনিন্দ্য সেনগুপ্ত ও তার বই অপার্থিব’এর কথা। আমি অত্যন্ত আনন্দিত ওর বইটা বেরোনোয়।
না, এই লেখার উদ্দেশ্য বইয়ের প্রচার নয়। অনিন্দ্য নিজেই গত বেশ কিছুদিন ধরে বইয়ের প্রচার করেছে, এই বিশ্বাস থেকে যে নিজে যা নিয়ে কনভিন্সড, তা নিজেকেই প্রচার করতে হবে, তা নাহলে নিজের কাজের প্রতিই কিছুটা অন্যায় করা হয়। বইটা আমি পড়িনি তাই এর গুণাগুণ নিয়ে কিছু বলতে পারব না এটুকু ছাড়া, অনিন্দ্যকে দীর্ঘ সময় ধরে চেনার সুবাদে, যে বইটি ফাঁকি দিয়ে তৈরী হয়নি। নিজের পছন্দের কাজে অনিন্দ্য ফাঁকি দেওয়ার ফাইন আর্টটা রপ্ত করতে শেখেনি। বই তোমরা পড়বে কি না, সেটা তোমাদের ব্যাপার। আমি একটু অন্য কথা বলে ক্ষান্ত দেব।
অনিন্দ্য আর আমার যে সম্পর্ক, যা নিয়ে পাব্লিক জায়গায় এই প্রথম মুখ খুললাম, তাতে আমি দ্বিধাহীন বলতে পারি এই বইয়ের রচনায় আমিও জড়িয়ে ছিলাম। কিভাবে? অনিন্দ্য আর আমি আজ যা হয়েছি (হ্যাঁ, কিছুই না, জানি) তাতে আমরা দুজনই দুজনকে গড়েছি, আমাদের কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ফর্ম্যাটিভ বছরগুলোয়, দিনের পর দিনের সুদীর্ঘ আড্ডা, গল্প, বিতর্ক, আলোচনা দিয়ে। অবশ্য এখানে আরো অনেকেই ঢুকে আছে যাদের নাম এখন নিচ্ছি না। আমি যখন কিছু লিখি তখন সে লেখায় অনিন্দ্য ঢুকে থাকে কো-অথার হিসেবে নয়, আরো বস্তুত গভীর ভাবে, as a shaping influence on my thoughts and ideas। থাকেই। ঠিক সে জায়গা থেকেই বলছি, আমিও লুকিয়ে ছিলাম অপার্থিব রচনার প্রক্রিয়াটার অদৃশ্য, অবচেতন আনাচকানাচে। খুব হাল্কাভাবে হলেও, ছিলাম।
যতবার এটা ভাবছি, একটা অপার্থিব আনন্দে মন ভরে যাচ্ছে।”

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s