‘ব্লেড রানার’ – ‘৮২-র জুনের একটি কল্পবিজ্ঞান ছবি

১।

২৫ জুন, ১৯৮২তে দুটি সায়েন্স ফিকশন ছবি মুক্তি পেয়েছিল – রিডলি স্কটের ‘ব্লেড রানার’ এবং জন কার্পেন্টারের ‘দ্য থিং’। দুটির কোনোটিরই আশানুরূপ বক্স অফিস সাফল্য মেলেনি; দুটি ছবিই অতঃপর কল্পবিজ্ঞান ছবির জগতে কাল্ট ছবি হিসেবে গন্য হবে। সত্যি বলতে কি এটা বলাই যায় যে কল্পবিজ্ঞান ছবির ইতিহাস দুই ভাগে বিভক্ত – ব্লেড রানারের আগে এবং ব্লেড রানারের পরে। স্কটের ছবি অনেক গন্ডগোলের মধ্যে দিয়ে গেলেও বড় স্টুডিওর প্রসাদ পেয়েছিল, কার্পেন্টারও এই প্রথম বড় স্টুডিওর পরিকাঠামো পেলেন। দুটি ছবির দূর্ভাগ্যই ছিল যে দুই সপ্তাহ আগে মুক্তি পেয়েছিল স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘ইটি’। বাল্যকালে অনেকের মতই ‘ইটি’ খুবই প্রিয় ছবি ছিল আমার, যদিও পরে যখন শুনেছিলাম যে সত্যজিৎ রায়ের প্রায় অঙ্কুরে বিনষ্ট হওয়া এলিয়েন-এর সাথে ইটি-র বড্ড মিল – ছবিটিকে খারাপবাসতে শিখেছিলাম।

দুই বছর আগে প্রায় ঝড়ের গতিতে যখন ‘অপার্থিব’ লিখছি, তখন কি আর জানতাম যে এই প্রতিটি ছবিরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব থাকবে আমার লেখায়?

তাই ‘অপার্থিব’-কে বলা যায় আমার প্রজন্মের – আশির দশকে যাদের বাল্যকাল কেটেছে – ’৮২-র জুনের এই ছবিগুলির প্রতি, এবং সত্যজিতের না-হওয়া ছবিটির প্রতি একটি কুর্নিশ একধরণের।

এমনকি ইটি’র প্রতিও – যদিও স্টিভেন স্পিলবার্গকে খারাপ লাগতে আরম্ভ করবে সেই নব্বইয়ের দশক থেকেই, যদিও তার ‘মাইনরিটি রিপোর্ট’ এবং ‘এ আই’ কল্পবিজ্ঞান ছবির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ছবি। ইটি – ‘এক্সট্রাটেরেস্টিয়াল’ – হয়তো ‘অপার্থিব’-র আক্ষরিক প্রতিশব্দ, যেমন সত্যজিতের ‘এলিয়েন’, যেমন ‘ব্লেড রানার’-এর পরিচালকের ‘এলিয়েন’ (১৯৭৯) – কিন্তু আমার ‘অপার্থিব’ মানে ভিনগ্রহী ঠিক নয়। ‘অপার্থিব’ শব্দটার মধ্যে অভাবনীয় বিস্ময়ের, অভূতপূর্বের একটি দ্যোতনা আছে যা ওই শব্দগুলোই নেই।

‘অপার্থিব’-য় ভিনগ্রহী, এক্সট্রাটেরেস্টিয়াল ইন্টেলিজেন্স – আছে।

যদি ইটি-র কিছু থেকে থাকে আমার উপন্যাসে সেটা হল তার ট্যাগলাইন – He is afraid. He is totally alone. He is 3 million light years from home – বস্তুত, এই লাইনটা – ওই বয়সে – আমার মধ্যে এমন একটি আতংকের শিহরণ তৈরি করেছিল – ইটির আর সবকিছু আমার মন থেকে মুছে গেলেও – যার অভিঘাত এখন’ও যায়নি। ‘অপার্থিব’-য় এই তিনটি বাক্য ফল্গুধারায় বয়ে যায়, কখনো ছেড়ে যায়না।

২।

giphy1

qezgfyo

‘ব্লেড রানার’ এবং ‘দ্য থিং’ দেখেছি অনেক পরে। কার্পেন্টারের ‘দ্য থিং’ এবং স্কটের ‘এলিয়েন’ ইটির উলটোপথে হাঁটে – অর্থাৎ গতানুগতিক পথে – সেখানে ভিনগ্রহী হল ভয়ংকর, আতংকের অবয়ব। ‘ব্লেড রানার’ আপাতভাবে মনে হয় এই গোত্রের গল্প নয়, ভিনগ্রহী সেখানে নেই। কার্পেন্টারের ছবিটি নিয়ে পরে লিখবো – আপাতত ‘ব্লেড রানার’ নিয়ে।

মজাটা সেখানেই – ‘ব্লেড রানার’ ওই গোত্র থেকে খুব একটা আলাদা নয়। ‘ব্লেড রানার’-এও এলিয়েন আছে।

‘ব্লেড রানার’ আমার অসম্ভব প্রিয় কারণ ছবিটিকে আমার কল্পবিজ্ঞান মনেই হয়না মাঝে মাঝে – সবাই জানে যে ‘ব্লেড রানার’ যতটা কল্পবৈজ্ঞানিক, ততটাই ফিল্ম নোয়া। আমার আবার ছদ্ম ওয়েস্টার্নও লাগে।

ওয়েস্টার্ন? যে ছবি ডিস্টোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন এবং সাইবারপাঙ্ক ঘরানার ছবির প্রায় বাইবেলের মত (‘ব্লেড রানার’ যখন মুক্তি পাচ্ছে, সেইসময়েই সাইবারপাঙ্ক ঘরানার আকর উপন্যাস ‘নিউরোমান্সার’ লিখছেন উইলিয়াম গিবসন), আদ্যন্ত নাগরিক সেই ছবি ওয়েস্টার্ন হল কীভাবে? ওয়েস্টার্ন – যা কিনা ১৯শ শতকের গ্রামীন আমেরিকার গল্প বলে – ফ্রন্টিয়ারের গল্প?

আমার কাছে উত্তরটা সহজ – সবার কাছে গ্রহণযোগ্য না হলেও। ‘ব্লেড রানার’-এর নায়ক রিক ডেকার্ড আদতে একজন বাউন্টি হান্টার, যে চরিত্রটা স্প্যাঘেটি ওয়েস্টার্নের অন্তর্ঘাতের পর ওয়েস্টার্নে প্রায় কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে ওঠে। ‘ব্লেড রানার’-এর লস এঞ্জেলেস প্রায় ১৯শ শতকের মেক্সিকান বর্ডারের আমেরিকার মত মাল্টিরেশিয়াল হাটবাজারের মত জায়গা; আর ছবির যারা খলনায়ক – তারা যে আসলে আইন ভেঙে পলাতক ক্রীতদাস তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কিন্তু আমার প্রায় সব হলিউডি ছবিকেই ছদ্ম-ওয়েস্টার্ন লাগে। সে কথা থাক। ‘ব্লেড রানার’-কে বলা হয় futuristic noir – অর্থাৎ ফিল্ম নোয়ার ফিউচারিস্টিক সংস্করণ। Hard boiled detective গল্পর উপর ভিত্তি করে যেমন film noir একটি বিশেষ শৈলী ও হতাশাবাদী আখ্যান তৈরি করেছিল – ‘ব্লেড রানার’-এ সেভাবেই দেখি একটি পেল্লায় নগরে বিপর্যস্ত পৌরুষের গল্প।

অন্য একটি পোস্টে Film Noir নিয়ে লিখেছি।

মজাটা এখানেই – পুরুষ ‘ব্লেড রানার’-এ হয়ে গেছে ‘মানুষ’ আর ফিল্ম নোয়ার সেই বিখ্যাত যৌন-অপর, সেই অবাধ্য নারীত্ব হয়ে গেছে ‘রেপ্লিক্যান্ট’ – এই অ্যানালজি বা মেটাফরটা ‘ব্লেড রানার’-এ খুব আলগা ভাবে রাখা আছে। এই রেপ্লিক্যান্টরাই এই ছবির ‘এলিয়েন’, ভিনগ্রহী না হলেও। মানুষ – অথচ মানুষ না – যেভাবে নারীরা পুরুষ না।

Alien – “a foreigner, especially one who is not a naturalized citizen of the country where he or she is living.”

vlcsnap-error580

রেপ্লিক্যান্ট কি? অ্যান্ড্রয়েড; এক কথায় কৃত্রিম মানুষ (কিন্তু যন্ত্রমানুষ বা রোবট নয়)। টাইরেল কর্পোরেশনের তৈরি এই উন্নতমাত্রার কৃত্রিম মানুষদের মূলত অন্যান্য গ্রহে খনিজ ও অন্যান্য শ্রমে নিযুক্ত করা হত। তাদের গড় আয়ু হত বছর চারেক। ছবির শুরুতে এরকম চারজন রেপ্লিক্যান্ট দূরতর কোনো গ্রহে বিদ্রোহ করে পলাতক হয়ে পৃথিবীতে চলে এসেছে বলে শোনা যায়। নায়ক রিক ডেকার্ডের কাজ হল তাদের খুঁজে বের করে হত্যা করা – সে এই কাজে পেশাদার, সে’ই ব্লেড রানার। ছবির প্লট বলতে আর বিশেষ কিছু নেই; তবে একটি মুখ্য ঘটনা হল ডেকার্ডের আরেকটি রেপ্লিক্যান্টের প্রেমে পড়া, যার ফলে ডেকার্ড নিজের ‘মনুষ্যত্ব’-কেই প্রশ্ন করতে শুরু করে।

শিকার এবং শিকারীর এই চোরপুলিশ খেলার প্লটটি ছবিতে সত্যিই ন্যুণতম। ‘ব্লেড রানার’ স্মরনীয় হয়ে থাকবে প্লট-বহির্ভূত কারণে – একটি অদ্ভূত গথিক-পুঁজিবাদী নাগরিক পরিসর তৈরি করার জন্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উদযাপনকারী আগের কল্পবিজ্ঞান ছবি থেকে অন্যরকম, অন্ধকারাচ্ছন্ন, প্যারানয়েড একটি ভবিষ্যত তৈরি করার জন্য, এমন একটি আবেশ তৈরি করার জন্য যার ফলে ছবির অর্থ প্লট থেকে মুক্ত হয়ে যায় অনন্ত সম্ভাবনায়। এই আবেশ তৈরি হয় ক্রাফট দিয়ে, শৈলী দিয়ে এবং প্লটে অসংখ্য ফাঁকফোকর থাকার জন্য।

নিশ্চয়ই অনেক পূর্বসূরী আছে – কিন্তু কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে ‘৬০-এর দশকে যে ‘নবতরঙ্গ’ এসেছিল তার পুরোধাব্যক্তিত্ব ফিলিপ কে ডিকের গল্প অবলম্বণ করে ‘ব্লেড রানার’ কল্পবিজ্ঞানের অন্যতম প্রথম ডিস্টোপিয়ান ছবি – যে ছবি আসার পর কল্পবিজ্ঞান আর নেতিবাচকতার গন্ধ গা থেকে মুছে দিতে পারবে না।

কিন্তু ঠিক যেমন বাবার’ও বাবা থাকে – ‘ব্লেড রানার’-কেও দুটি ছবির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে পড়ার মজাই আলাদা – জঁ-লুক গোদারের ‘আলফাভিল’ আর ফ্রিৎজ লাং-এর ‘মেট্রোপলিস’।

৩।

কিন্তু আমার এই ব্লগ তো ‘অপার্থিব’ নিয়ে।

আবার এটাও আমাকে মেনে চলতে হবে – নিজের ওপরেই নিয়ম আরোপ করেছি – আমার লেখা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা, কোন ক্রিটিকাল মন্তব্য আমি দেবো না। বই এখন’ও বেরোয়নি – আগে থেকে পাঠকের পাঠের অভিজ্ঞতাকে পথ বাতলে দেবো না। আমি শুধু মনে করার চেষ্টা করছি কেন ‘ব্লেড রানার’, কীভাবে আমার ‘অপার্থিব’ লেখার সময়ে সক্রিয় ছিল। কারণ ‘অপার্থিব’-য় শহর নেই, আছে অরণ্য।

শহর আছে শুধু স্মৃতিতে। নায়কের স্মৃতিতে এবং গল্পের স্মৃতিতে – সেইখানে ‘ব্লেড রানার’ সক্রিয় নিশ্চয়ই।

একটা অদ্ভূত ঘটনা ঘটে ‘ব্লেড রানার’ দ্যাখার সময়ে। প্রথমত, ন্যুণতম প্লট কখনো বুঝিয়ে দেয় না রেপ্লিক্যান্টরা এত বিপজ্জনক কেন। সেক্ষেত্রে মনে হয় গতানুগতিক কল্পবিজ্ঞান দেখে অভ্যস্ত দর্শকদের নিয়েই খেলছে ছবিটি। রেপ্লিক্যান্ট বা কৃত্রিম মানুষ শুনেই আমাদের মনে পড়ে ফ্র্যাঙ্কেস্টাইনের কথা – মেরি শেলীর অত্যন্ত গভীর উপন্যাসের কথা বলছি না, জনমানসে তার স্মৃতির কথা বলছি – এবং আমরা ধরেই নিই যে তারা বিপজ্জনক। গোটা ছবি এই দক্ষিণপন্থী ভীতি থেকেই শুরু হয় এবং এক বিচিত্র দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ায় রেপ্লিক্যান্টদের জন্য আমাদের সহানুভূতিও বাড়াতে থাকে। ছবিটি যারা দেখেছেন তারা জানেন যে সিনেমার ইতিহাসে খলনায়কের সবচাইতে কাব্যিক মৃত্যুদৃশ্য এই ছবিতেই আছে। রেপ্লিক্যান্টদের হত্যা আমাদের তৃপ্ত করেনা। এই না-মানুষগুলো শুধু আরো জীবন চেয়েছিল যা তাদের দেওয়া হবেনা, তাদের অবধারিত মৃত্যুগুলি বিষাদাচ্ছন্ন করে দেয় আমাদের। আর সেই বিষাদটাই ‘ব্লেড রানার’-এর ‘নতুন’, ভীতিপ্রদ নাগরিকতার আকাশে বাতাসে আলোয় আওয়াজে ঘুরতে থাকে।

তাই আমার গল্পেও একজন অ্যান্ড্রয়েড থাকে, যে হয়তো একজন রেপ্লিক্যান্ট হয়ে যেতে পারে। এবং কি অদ্ভূত – ‘ব্লেড রানার’ হয়ে যেতে পারে ‘অপার্থিব’-র ভবিষ্যত’ও, অর্থাৎ গল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরের গল্প – না-মানুষদের আরো বাঁচতে চাওয়ার গল্প।
tumblr_m0u4rckxtd1qfk3lfo1_4001

giphy2

tumblr_nulb7crpxt1uy82zoo1_500

‘ব্লেড রানার’-এ একধরণের সর্বব্যাপী মৃত্যুচেতনা আছে; বা সেটা মৃত্যুচেতনা নয় – ঘড়ি মেপে ফুরিয়ে যাওয়ার অনুভব, অন্তরে ঘড়ির টিকটিক-কে শুনতে থাকা, আর ঘড়িটা যে অন্যের নিয়ন্ত্রণে আছে সেটা অসহায়ভাবে বোঝা – এবং কল্পবিজ্ঞান না হলে এই ব্যাপারটা বোঝানো যেত না সহজে। রেপ্লিক্যান্টদের এক্সপায়ারি ডেট থাকে, তারা বৃদ্ধ হয়ে, জরাগ্রস্থ হয়ে মরে না, মরে যখন তারা তাদের সম্ভাবনার শীর্ষবিন্দুতে। তারা জন্মের ক্ষণ থেকেই মৃত্যুতে দন্ডিত। তারা ক্ষণজন্মা অত্যুন্নত মানুষ – কৃত্রিম হলেও – তারা শ্রমবীর, তারা তাদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জন করে আবেগ। এই অর্জিত আবেগই তাদের স্রষ্টারা – অর্থাৎ পুঁজিবাদ – ভয় করে; ভয় করে সেই আবেগ থেকে বিদ্রোহের সম্ভাবনাকে, আরো জীবনের বাসনাকে। তারা ফুরিয়ে যায় ঠিক যখন তারা জীবনকে ভালোবাসতে শিখছিলো। এভাবে রেপ্লিক্যান্টরা আমাদের – মানে মানুষদের নয়, কিছু কিছু মানুষদের – মেটাফর হয়ে যায়। তাই এই ছবিতে খলনায়কের মৃত্যু যেমন মন খারাপ করে দেয় – আবার এই ভাবনাও উদ্রেক করে যে নায়কও রেপ্লিক্যান্ট নয় তো? সত্যিই ছবির শেষে রেপ্লিক্যান্ট না হলে একাত্ম হওয়া যায় না – এমন এক অসম্ভবকে আকার দিয়েছেন রিডলি স্কট। রেপ্লিক্যান্ট এই ছবির অ-মানুষ, বিপজ্জনক সুন্দর, অস্তিত্ত্বের অলীক সম্ভাবনা, নাশকতার দেবদূত, আধুনিক পুঁজিবাদী মানুষের নেমেসিস।

‘অপার্থিব’-য় এই আইডিয়াটা ধার নিয়েছি, তারপর বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি অন্য খাতে। হয়তো উলটো দিকে – যে লেখে সে বলতে পারেনা কীভাবে।

cropped-softcover-trade-book-psd-mockup-aparthibo.png

Advertisements

4 Replies to “‘ব্লেড রানার’ – ‘৮২-র জুনের একটি কল্পবিজ্ঞান ছবি”

  1. ওয়েস্টার্ন – যা কিনা ১৯শ শতকের গ্রামীন আমেরিকার গল্প বলে – ফ্রন্টিয়ারের গল্প? . . . –
    এই প্রসঙ্গে আমি ২,একটা কথা বলতে চাই ; সেটা হলো – বাঙালি / ভারতীয়রা (পড়ুন নতুন / একটু পুরোনো প্রজন্ম যারা এখন ৩২-৩৫ ) এমন একটা জায়গায় ফেঁসে আছে , যেখানে তারা জেনে আসছে – ওয়েস্টার্ন মানে ওয়েস্ট / হলিউড , কাজেই ওয়েস্টার্ন মানেই হলিউড সিনেমা ; ইংরেজি ভাষার সিনেমা ; তার বাইরে স্প্যাঘেটি ওয়েস্টার্ন , japanese / জার্মান / ফ্রেঞ্চ / স্প্যানিশ /ইন্ডিয়ান ওয়েস্টার্ন সম্বন্ধে তারা (আমি/আপনি আর এরকম হাতে গোনা কয়েকজন বাদে ) কিছুই জানে না ; কারণ ‘জানার’ জন্য যে সময়টা/ইচ্ছেটা দরকার , সেটা আইপিএল/ফুটবল/রাজনীতি/বাহুবলি সংক্রান্ত আলোচনায় বেরিয়ে যায় ;

    দ্য থিং / দে লিভ থেকে শুরু করে গেট কার্টার/ ফ্রেঞ্চ কানেকশন/ লে সামুরাই / এ বুলেট ফর দ্য জেনারেল / ইজিরাইডার / ভ্যানিশিং পয়েন্ট / সোর্সেরর / ফিৎজকারাল্ডো – এরা আর জানবে না কারণ ষ্টার মুভিস/HBO – এই সিনেমাগুলোকে আর প্রোমোট করে না পুরোনো হয়ে গেছে বলে ; কিন্তু এরা ‘অল লেডিস ডু ইট’ জানবে , ‘গান্ডু’ জানবে ; এরা ‘RII ‘ -র তুলনামূলক সহজ রূপ-টা চিনবে / জানবে . . রিডলি স্কট নামটুকুই জানবে , তার বেশি গিগার / সিড মিড্ জানবে না ,

    নতুন প্রজন্মের মেয়েগুলো দল বেঁধে মাল্টিপ্লেক্স-এ নতুন ব্লেডরানার দেখতে যাবে শুধু হ্যান্ডসম ‘রায়ান গসলিং’-কে দেখার জন্য , ব্লেডরানার কি / ক্যানো / গায়ে দেয়/ মাথায় মাখে – সে নিয়ে তাদের কোনো জানার আগ্রহ নেই; এটা সেলফ এক্সপেরিয়েন্স থেকে বললাম; কিছুদিন আগে NSHM – এর এক সিনেমাবোদ্ধা ছাত্রীকে নতুন ব্লেডরান্নার-এর প্রথম ট্রেইলার টা কানে হেডফোন দিয়ে ১৯” মনিটর-এ দেখিয়ে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করেছিলাম – কি বুঝলে ? সে উত্তর দিয়েছিলো- রায়ান গসলিং-কে কি হ্যান্ডসম লাগছে , না দাদা ?? . . .

    Like

    1. বাঃ! ওয়েস্টার্ন আমার সবচেয়ে প্রিয় জঁর – ফিল্ম নোয়ার সাথে। পিসি-টা খারাপ হয়ে আছে; ল্যাপটপে শোনা যায়না ভালো। অতএব এটা পরে মন দিয়ে শুনতে হবে।। থ্যাঙ্ক ইউ 🙂

      Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s